খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১:৪৬ পিএম

দেশের বিভিন্ন জেলায় এক রাত ও এক দিনের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় অন্তত কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেনীতে একই রাতে ঘটেছে দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ছাগলনাইয়া উপজেলায় পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা যোবায়ের হোসেন পারভেজের (৩৫) মরদেহ। অন্যদিকে ফুলগাজীতে ঘরের টিনের চাল কেটে প্রবেশ করে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কুমিল্লা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও পাবনাতেও পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Table of Contents
নিহত যোবায়ের হোসেন পারভেজ ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং আবু তাহেরের ছেলে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর ফারুক জানান, পারভেজ ভবিষ্যতে ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বালু উত্তোলনসংক্রান্ত নৌযান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে ডাকাতি এবং বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর খামার থেকে কয়েকটি গরু লুট এবং বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় পারভেজ এবং একই এলাকার মামুনুর রশিদ মামুন কারাগারে ছিলেন। জামিনে মুক্তির পর একটি দোকানকে কেন্দ্র করে মামুন ও শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তীব্র হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে পারভেজ ও মামুনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ টর্চলাইট দিয়ে মামুনকে আঘাত করেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও গভীর রাতে মামুন ও শাহাদাত পারভেজকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
শনিবার ভোরে স্থানীয়রা একটি পুকুরে ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে স্বজনরা সেটি পারভেজের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের ভাই নয়ন জানান, মরদেহে দুই হাত, দুই পা এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ এবং সন্দেহভাজন মামুন ও শাহাদাত—তিনজনের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বেড়েছিল। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতাল থেকে আহত অবস্থায় শাহাদাতকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবু তাহের শাহাদাত, মামুনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামে শনিবার সকালে কাজল আক্তারের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী নুরুল আমিন কুয়েতপ্রবাসী। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় কাজলের হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দত্তপুর পূর্বপাড়ায় এনায়েত হোসেন ওরফে বাহার (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এক প্রবাসীর স্ত্রী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, ধর্ষণচেষ্টা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি বাহারকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
তবে নিহতের মা নেহারা বেগম দাবি করেন, তাঁর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘরে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩৫) নিহত হন।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের হারুন মাতবরপাড়ায় শুক্রবার রাতে ধারালো কিরিচের আঘাতে নিহত হন আবু তাহের (৬৫)। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মঞ্জু শেখ (৩৫), যিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য