শাহ্ মুহাম্মদ আবুল হোসেন (বা আবুল হোসাইন) ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। সিভিল সার্ভিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ ও সফল চাকরিজীবন শেষে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং দেশসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পেশাগত জীবন ও সরকারি সেবা
রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে শাহ্ মুহাম্মদ আবুল হোসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন দক্ষ ও সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- কাস্টমস সংগ্রাহক (Collector of Customs): তিনি বাংলাদেশ কাস্টমস ও এক্সাইজ বিভাগে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস সংগ্রাহক (Collector of Customs) হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
- সিভিল সার্ভিসের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনীতি ও নীতি-নির্ধারণে তাঁকে বিশেষ সহায়তা করে।
রাজনৈতিক জীবন ও সংসদীয় রাজনীতি (বরিশাল-৪)
সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন এবং মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা অঞ্চলে দলের শক্তিশালী ভিত্তিমূল গড়ে তোলেন।
- ৭ম জাতীয় সংসদ (জুন ১৯৯৬): ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১ম বার জাতীয় সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন।
- ৮ম জাতীয় সংসদ (২০০১): ২০০১ সালের ১ম অক্টোবরের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে পুনরায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন
২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তাঁর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী (২০০১–২০০৬): তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দেশের রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা আনয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সামাজিক অবদান
বরিশাল-৪ আসনটি মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলার মতো নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা নিয়ে গঠিত। সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি এই অঞ্চলের নদীভাঙন রোধ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সেতু নির্মাণ, সাইক্লোন সেন্টার স্থাপন এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেন।
জীবনাবসান
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে প্রবীণ এই নেতা শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। ২১ নভেম্বর ২০২২ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বহু অনুরাগী রেখে যান।
তাঁর মৃত্যুতে বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে এবং বিএনপি দলীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন স্বনামধন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্ন মেজাজের রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা অঞ্চলের মানুষের কাছে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয়।









