,

গৃহবধূকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক গৃহবধূকে পরিত্যক্ত ইটভাটায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে রোববার তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে সৈকত মিয়া (২৮) এবং কচুয়া ইউনিয়নের উল্লাসোনাতলা (হাজীপাড়া) গ্রামের মো. বাদল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মুস্তাকিম (২০)। মুস্তাকিম পেশায় একজন রিকশাভ্যানচালক।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২১ বছর বয়সী ওই নারী শনিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তাঁর বোনের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকে বোনারপাড়া এলাকায় সৈকতের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় সৈকত তাঁকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁকে মুস্তাকিমের রিকশাভ্যানে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে ওই নারীকে বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সৈকত ও মুস্তাকিম তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি বুঝতে পেরে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাঁরা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সাঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাঘাটা থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
নারীর নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার গুরুত্ব
রাতে যাতায়াতের সময় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো বিপদের মুখে পড়লে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তও জরুরি।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্‌ঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।