রাশিয়ার সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি আবারও রুশ-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। ইস্তাম্বুলে এই আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অতিরিক্ত দেশপ্রেমিক ও উগ্র জাতীয়তাবাদী ইতিহাস ব্যাখ্যার জন্য পরিচিত মেদিনস্কি ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরুর সময় শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে সে সময় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে মস্কো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনায় পুতিনের সরাসরি উপস্থিতি কামনা করলেও, শেষ পর্যন্ত ক্রেমলিন জানায়, আলোচনায় অংশ নেবেন মেদিনস্কি। ইউক্রেন এই সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞাসূচক বলে মন্তব্য করেছে এবং রাশিয়ার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
৫৪ বছর বয়সী মেদিনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। রুশ ইতিহাসের এক জাতীয়তাবাদী ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠায় তার বড় ভূমিকা রয়েছে। ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডগত দাবিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যায়।
স্বাধীন ইতিহাসবিদরা তার এসব ব্যাখ্যাকে তথ্য বিকৃতি ও অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২০ সাল থেকে তিনি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১২ সালে পুতিনের তৃতীয় দফা ক্ষমতায় ফেরার সময় সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ প্রচারণা এবং পাঠ্যপুস্তকে সংঘাতকে ‘শান্তি রক্ষার প্রচেষ্টা’ হিসেবে তুলে ধরার কাজেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন মেদিনস্কি।
তার রচিত পাঠ্যবইয়ে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলকে ‘রাশিয়ার বীরোচিত পদক্ষেপ’ এবং ইউক্রেনকে ‘চরম জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন, ইউক্রেন নামে কোনো ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় ভিত্তি নেই এবং এই ধারণাটি অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের সময় তৈরি হয়েছিল।
১৯৭০ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউক্রেন অঞ্চলের এক ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন মেদিনস্কি। কৈশোরেই মস্কো চলে যান। ২০২২ সালের মার্চে তাকে বেলারুশ ও ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনায় রুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে সে সময়ের আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছিল। রাশিয়া দাবি করেছিল, ইউক্রেন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ছিল, কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
২০২৪ সালে মেদিনস্কি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে হারানোর পথ বেছে নেয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসন বন্ধের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি। তার মতে, ট্রাম্পের উদ্যোগ রাশিয়ার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে নিজ দেশে মেদিনস্কির বিতর্কিত অবস্থানের সমালোচনাও রয়েছে। রুশ ইতিহাসবিদদের অভিযোগ, তিনি ইতিহাস বিকৃত করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে তথ্যের অপব্যবহার করেন।
