আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানো মামলার রায়

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ এই তারিখ ধার্য করেন। বেঞ্চের সভাপতি ছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার প্রসিকিউশন দল নেতৃত্ব দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অন্যান্য প্রসিকিউটরদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামীম, বিএম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান। চারজন আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

বর্তমানে মামলায় মোট আটজন আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

আসামিদের মধ্যে শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হিসেবে শহীদদের পরিবার এবং ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ বাকি আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাদের লাশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে একজন ব্যক্তি জীবিত থাকলেও তাকে বাঁচানো হয়নি।

নিচের টেবিলে গ্রেফতার আসামিদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

নামপদবী/পদবর্তমান অবস্থান
আবদুল্লাহিল কাফীসাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগ্রেফতার
মো. শহিদুল ইসলামসাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগ্রেফতার
মো. আরাফাত হোসেনসাবেক ডিবি পরিদর্শকগ্রেফতার
আবদুল মালেকসাবেক এসআই, আশুলিয়া থানাগ্রেফতার
আরাফাত উদ্দীনসাধারণ ব্যক্তিগ্রেফতার
কামরুল হাসানসাধারণ ব্যক্তিগ্রেফতার
শেখ আবজালুল হকসাধারণ ব্যক্তিগ্রেফতার, রাজসাক্ষী
মুকুল চোকদারসাবেক কনস্টেবলগ্রেফতার
মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসাবেক সংসদ সদস্যপলাতক
অন্যান্য ৭ জনবিভিন্ন পদপলাতক

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রায় ঘোষণার দিন আদালতে বিস্তারিত প্রমাণাদি ও জবানবন্দি উপস্থাপন করা হবে, যা মামলার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।