রোববার ট্রাম্প–ভন ডার লেইন বৈঠক: বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তে শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন আসন্ন রোববার স্কটল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো আটলান্টিকের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য অচলাবস্থার সমাধান এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করা।

এএফপি জানিয়েছে, এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগস্টের ১ তারিখের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সম্ভাব্য পাল্টা শুল্কের প্রস্তুতি নিয়েছে।

ভন ডার লেইন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ ফোনালাপের পর আমরা রোববার দেখা করে ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও তা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।”

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইইউর সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য কাজ করব। ভন ডার লেইন একজন সম্মানিত নারী, আমরা আশাবাদী। তবে এখনও ২০টির মতো বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। চুক্তির সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’।”

ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইইউ পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব, যা সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির অনুরূপ। তবে ইস্পাত, ওষুধ, বিমান ও কৃষিপণ্যের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছাড়ের প্রত্যাশা করছে ইউরোপ।

ইইউর মুখপাত্র পাওলা পিনহো জানান, বৈঠকের আগে রাজনৈতিক ও কারিগরি পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। “নেতারা এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোচ্ছেন, যা উভয় অঞ্চলের ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য পূর্বানুমেয়তা ও স্থিতিশীলতা আনবে,” বলেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে জাপান, ব্রিটেন ও ফিলিপাইনের সঙ্গে পাঁচটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ইইউ চায় চুক্তি সম্পন্ন করে বাড়তি শুল্ক এড়িয়ে চলতে, যা ইউরোপের মন্দায় জর্জরিত অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে ইউরোপীয় গাড়িতে ২৫ শতাংশ, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্প সমঝোতা না হলে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দিয়েছেন।

চাপ ধরে রাখতে ইইউ ইতোমধ্যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্কের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা প্রয়োজনে ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির ভাগ্য নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর—এমনটাই মনে করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। এএফপিকে এক কূটনীতিক বলেন, “সবকিছু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের হাতে।”