বেনজীর আহমেদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলছে :দুদক

দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ-কে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় বিচার কার্যক্রম চলছে এবং বাকি পাঁচটি মামলা তদন্তাধীন।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে গ্রেপ্তারি আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি মামলার মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আদালতে বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি পদে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বর্তমান অবস্থা

বিষয়তথ্য
অভিযুক্তবেনজীর আহমেদ
মোট মামলা৬টি
বিচারাধীন মামলা১টি (১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ মামলা)
তদন্তাধীন মামলা৫টি
অভিযোগের ধরনজ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও পাসপোর্ট জালিয়াতি
আনুমানিক সম্পদ অভিযোগপ্রায় ৭৬ কোটি টাকা

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আরও জানান, আদালতের নির্দেশে এর আগে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব এবং সঞ্চয়পত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কার্যকর হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাঁকে দ্রুত বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।