রাজাপুরে সাংবাদিক লিপুর ওপর হামলা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক সহিংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মঈনুল হক লিপু গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মঈনুল হক লিপু ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে সাত থেকে আটজনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

আহত সাংবাদিক মঈনুল হক লিপু দাবি করেন, তার চাচাতো বোনের একটি পানির মোটর চুরির ঘটনার জের ধরে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় আছলাম হোসেনের ছেলে শান্ত, চুন্নু সিকদারের ছেলে রিজন সিকদার, শাকিল সিকদারসহ আরও কয়েকজন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত শান্ত এর আগে মাদক সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে বর্তমানে তার অবস্থান বা মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
ঘটনাসাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হামলা
স্থানরাজাপুর উপজেলা, ঝালকাঠি
সময়মঙ্গলবার, বিকেল চারটা
আহত ব্যক্তিমঈনুল হক লিপু
পেশাসাংবাদিক
আহত হওয়ার কারণপূর্ববিরোধ ও চুরির ঘটনার জের
অভিযুক্ত সংখ্যাসাত থেকে আটজন
হামলার ধরনধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত
প্রাথমিক চিকিৎসাউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
আইনগত ব্যবস্থাতদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান চলমান

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।