নেত্রকোনার পূর্বধলায় কালো পতাকা হাতে রাজপথে প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। গত শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্যস্ততম হিরনপুর বাজার এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলাইমান হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের সামনের সারিতে একটি দলীয় ব্যানার ছিল এবং বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর হাতে কালো পতাকা দেখা যায়। ঝটিকা এই মিছিল থেকে সরকার ও তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দলীয় স্লোগান দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুক্রবার সকালে সাধারণ মানুষ যখন জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সকাল পৌনে আটটার দিকে হিরনপুর বাজারে বেশ কিছু যুবক হঠাৎ এসে জড়ো হন। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তারা কালো পতাকা উঁচিয়ে সংক্ষিপ্ত মিছিল শুরু করেন। মিনিট পাঁচেক মিছিল ও তীব্র স্লোগান দেওয়ার পর মিছিলকারীরা তড়িঘড়ি করে সেখানে থাকা মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মিছিলটি শেষ হওয়ার পর পরই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি পোস্ট ও শেয়ার করতে থাকেন, যা অতি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি নজরে আসার পরই তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় থানা-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ প্রসঙ্গে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং হিরনপুর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় যুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ টিম এরই মধ্যে অভিযানে নেমেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।









