জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ২:৪১ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে মধ্যরাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ব্যাগপত্রসহ হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
Table of Contents
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মধ্যরাতে হলের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রবেশ করেন। এ সময় হলে অবস্থানরত ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।
হলত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থীরা তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও ল্যাপটপ-কম্পিউটার নিয়ে বের হয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, হল থেকে বের করে দেওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁদের ধাওয়া করেন এবং শারীরিক লাঞ্ছনা করে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে তাড়িয়ে দেন।
পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোডাউন ও মিছিল বের করেন। মিছিলটি মোহাম্মদপুর থানা ভবনের সামনে দিয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং অতিক্রম করে শেষ হয়। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ছাত্রশিবিরবিরোধী বিভিন্ন ধরনের উত্তপ্ত স্লোগান দেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী, যিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরী খশিয়ার জানান:
“রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে ইনস্টিটিউটের উল্টো পাশে অবস্থিত ঢাকা সিটি হসপিটালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।”
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,
“হলের ভেতরে আমাদের ওপর কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালানো হলো। মারধর করে মাঝরাতে আমাদের প্রায় ১৫ জনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যরাতে আমরা কোথায় আশ্রয় নেব?”
ঘটনার কারণ হিসেবে দুই পক্ষের নেতৃবৃন্দ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছেন:
ছাত্রদলের স্থানীয় শাখা: সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর জানান, শুরুতে হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগের ‘রোহান’ নামের এক কর্মীকে বের করতে গেলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই ছাত্রলীগ কর্মী পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে উত্তেজনা ছড়ায়।
মহানগর ছাত্রদল নেতৃত্ব: ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন দাবি করেন, দিনভর ছাত্রশিবির তাঁদের কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরবর্তীতে গোপন সূত্রে নাশকতার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় শিবির কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং দুইজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য