ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই অভিযোগে অভিযুক্ত এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি ফলের বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে শনিবার পুলিশ জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত তরুণ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলে ওই ছাত্রীর পরিবার। অভিযোগ ওঠার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তরুণটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে অভিযোগকারী ছাত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য অভিযুক্ত তরুণের বাড়িতে যান। তাদের অভিযোগ ছিল, ওই তরুণ ছাত্রীটির ওপর আক্রমণ করেছেন এবং তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতের জরুরি সহায়তা নম্বর ১১২-এ ফোন করেও অভিযোগ জানানো হয়।
এরপর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে গ্রামের একটি ফলের বাগানে গাছের সঙ্গে ওই তরুণকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একই সঙ্গে সেখানে পৌঁছান নিহত তরুণের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে এবং ফরেনসিক দলের সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
তরুণটির পরিবারের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগের ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। তার বাবা সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা সকালে তাদের বাড়িতে এসে ছেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা।
স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মকর্তা উমেদ সিং জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে তরুণটির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করা হয়েছিল। একই দিন সন্ধ্যায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ এবং তরুণটির মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই ঘটনায় একদিকে স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এবং অন্যদিকে অভিযুক্ত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় তদন্তটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের ফল, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তরুণটির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল, অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র ছিল কি না এবং পরিবারের পক্ষ থেকে করা হত্যার অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।









