,

যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী, গ্রেপ্তার ৩

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক তরুণী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিল্লাল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন হারুন ও রুবেল। আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওই তরুণীর সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা বিল্লাল মিয়ার। ফোনে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁরা সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে বিল্লালের সঙ্গে দেখা করতে কেন্দুয়ার কাশিপুর গ্রামে যান তরুণী।

তরুণীর অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর বিল্লাল তাঁকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে কাশিপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যান। পরে ওই মাঠের একটি নির্জন স্থানে বিল্লাল তাঁর দুই বন্ধু হারুন ও রুবেলকে নিয়ে তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর কৌশলে তাঁদের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন ভুক্তভোগী। এরপর তিনি কেন্দুয়া থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। রোববার সকালে কাশিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মঙ্গল মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (২২), রোস্তম আলীর ছেলে হারুন (২৭) এবং এখলাস মিয়ার ছেলে রুবেল (২৫)।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে বিল্লাল, হারুন ও রুবেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে আসে।

কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সজল সরকার জানান, ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পুলিশি পাহারায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখতে মামলাটির তদন্ত চলছে।

এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও জরুরি। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।