কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযানে মানবপাচার চক্রের দুই মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধ দমন এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার টেকনাফের ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) আওতাধীন বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ১৬ এপিবিএন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল দিনভর এই অভিযান পরিচালনা করে।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের দুই শীর্ষ স্থানীয় হোতাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. কবির ওরফে ডাক্তার কবির এবং তার সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বার। তাদের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সি কবিরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রলার আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি সাগরে ডুবে যায়। বিপজ্জনক ওই যাত্রার নেপথ্যে থাকা পাচারকারী চক্রের সঙ্গে এই দুই ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন। সে সময় সাগরে নৌকাডুবির পর ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভেসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে কোস্টগার্ডের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই চক্রের মূল হোতারা আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে একই দিনে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে আবু তৈয়ব নামের ছত্রিশ বছর বয়সি এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা ও অস্ত্র মামলার বিচার শেষে আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর যৌথ বাহিনীর জালে ধরা পড়েন তিনি।
অভিযান চলাকালীন ক্যাম্পের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা তল্লাশি চালিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য করা, মাদক সেবন, পারিবারিক সহিংসতা এবং ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশের মতো বিভিন্ন অপরাধে আরও দশজনকে আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
আইন অমান্যকারী ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই দশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| অপরাধের বিবরণ | ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রদত্ত সাজা বা জরিমানা |
| আইন অমান্য ও অবৈধ কার্যকলাপ | ছয় মাসের কারাদণ্ড (৩ জন) |
| নির্দিষ্ট অপরাধে সম্পৃক্ততা | পাঁচ মাসের কারাদণ্ড (১ জন) |
| ক্যাম্পে অবৈধ প্রবেশ ও বিশৃঙ্খলা | তিন মাসের কারাদণ্ড (২ জন) |
| ছোটখাটো অপরাধ ও স্থানীয় অনিয়ম | পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড (৪ জন) |
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে টেকনাফ ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার গণমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে এই ধরনের যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।








