যশোর শহরে যৌথবাহিনীর এক বিশেষ ও সুপরিকল্পিত অভিযানে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জামসহ একটি পরিবারের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আরিফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত আরিফ হোসেন পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পুলেরহাট আর্মি ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়ায় অবস্থিত আরিফ হোসেনের ব্যবহৃত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত দল বাড়ির প্রতিটি কক্ষ, ছাদ ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে। নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযানের পুরো সময় এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে না পারে বা আলামত নষ্ট করার সুযোগ না পায়।
যৌথ সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আরিফ হোসেন যশোর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট করে।
অস্ত্রের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় এক বক্স এয়ারগানের গুলি, দুটি চাপাতি, দুটি চায়না ব্যাটন স্টিক, দুটি চাকু, একটি চাকু ধার দেওয়ার র্যাদ, একটি সাইড টেলিস্কোপ, পাঁচটি সিসি ক্যামেরা, পাঁচ বোতল মদ এবং দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব সরঞ্জাম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, নজরদারি এবং যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—বারান্দি মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল মিস্ত্রির ছেলে জাকির হোসেন সাগর (৫২), তার ভাই জোয়েব হাসান সাকিব (৫৫), আরিফ হোসেনের স্ত্রী লোপা খাতুন (৩২) এবং জাকির হোসেন সাগরের স্ত্রী তাহেরা আক্তার তানিয়া (৪৫)। অভিযানের সময় আরিফ হোসেন বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে আটক চারজনকে উদ্ধারকৃত সব আলামতসহ যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও মাদক আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে যশোর অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একটি বড় চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে। তদন্তের পর আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের নাম উঠে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
উদ্ধারকৃত আলামতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| বিদেশি (ইউএসএ) পিস্তল | ২টি |
| ম্যাগাজিন | ২টি |
| তাজা গুলি | ১ রাউন্ড |
| এয়ারগানের গুলি | ১ বক্স |
| চাপাতি | ২টি |
| চায়না ব্যাটন স্টিক | ২টি |
| চাকু | ২টি |
| চাকু ধার দেওয়ার র্যাদ | ১টি |
| সাইড টেলিস্কোপ | ১টি |
| সিসি ক্যামেরা | ৫টি |
| মদের বোতল | ৫টি |
| অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন | ২টি |
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় যশোরে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং অপরাধচক্র ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
