২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে ধাপে ধাপে নিজের কৌশলগত ছাপ স্পষ্ট করছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ফর্ম, ধারাবাহিকতা এবং কৌশলগত মানানসই বিবেচনায় তিনি ইতোমধ্যেই ১১ জন খেলোয়াড়কে প্রায় ‘নিশ্চিত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র—এই মুহূর্তে যার জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়।
আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলেছে। ফলাফল খুব উজ্জ্বল না হলেও কোচের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থায়ী প্রথম একাদশ গড়ে তোলা। প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী কৌশল বদলালেও নির্ভরযোগ্য একটি কোর দল তৈরির ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে পুনরায় শিরোপার দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তার লক্ষ্য।
গোলরক্ষক হিসেবে আলিসন বেকার কোচের পূর্ণ আস্থাভাজন। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও বড় ম্যাচে স্থিরতার কারণে তার অবস্থান প্রায় অবিচল। রক্ষণভাগে মার্কিনিউস ও গ্যাব্রিয়েলকে কেন্দ্র করে গড়া হচ্ছে ডিফেন্সিভ কাঠামো। তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য একাদশে থাকছেন ওয়েসলি ও ডগলাস সান্তোস, যারা আক্রমণে ওঠার সক্ষমতাও রাখেন।
মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা ও ব্রুনো গিমারেসের গতিশীলতা দলকে ভারসাম্য দিচ্ছে। কাসেমিরোর বল দখল ও রক্ষণভাগে সহায়তা এবং গিমারেসের ট্রানজিশন দক্ষতা আনচেলত্তির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, রোদ্রিগো ও উদীয়মান প্রতিভা এস্তেভাও কোচের আস্থার জায়গায় রয়েছেন। ম্যাথিউস কুনহা ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মূলত রোটেশনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন, যাতে দীর্ঘ টুর্নামেন্টে স্কোয়াডের গভীরতা বজায় থাকে।
নিচে সম্ভাব্য ‘নিশ্চিত’ খেলোয়াড়দের তালিকা উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগ | খেলোয়াড়দের নাম |
|---|---|
| গোলরক্ষক | আলিসন বেকার |
| রক্ষণভাগ | মার্কিনিউস, গ্যাব্রিয়েল |
| মাঝমাঠ | কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস |
| আক্রমণভাগ | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, রোদ্রিগো, এস্তেভাও, ম্যাথিউস কুনহা, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি |
তবে নেইমারের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। দীর্ঘ সময় চোটে ভোগার পর তার ফিটনেস ও ম্যাচ-ফিটনেস নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। চলমান মেডিক্যাল মূল্যায়ন এবং ক্লাব পর্যায়ের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে তার অন্তর্ভুক্তি। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অতীতের সুনাম নয়—বর্তমান ফর্মই হবে নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড।
সব মিলিয়ে ব্রাজিল দলে প্রজন্মান্তরের এক রূপান্তর পর্ব চলছে। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে গড়া এই স্কোয়াড যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের আবারও শিরোপার লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে।
