ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন চেলসির তরুণ মিডফিল্ডার কোল পালমার। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে একাই তিন গোল করে শুধু ম্যাচের ভাগ্যই নির্ধারণ করেননি, বরং গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। ম্যাচের ১৩, ৩৫ ও ৩৮ মিনিটে গোল করে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি—যা প্রিমিয়ার লিগ যুগে আগে কখনও দেখা যায়নি।
পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, পালমারই প্রথম ফুটবলার যিনি প্রিমিয়ার লিগে তিনটি ভিন্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে এভারটন ও ব্রাইটনের বিপক্ষেও তিনি বিরতির আগেই তিন গোল করেছিলেন। অনেক তারকা ফুটবলার যেখানে পুরো ক্যারিয়ারে একটি হ্যাটট্রিকের জন্য অপেক্ষা করেন, সেখানে পালমার মাত্র এক মৌসুমেই তিনবার প্রথমার্ধে এই কীর্তি গড়ে বিরল নজির স্থাপন করলেন।
উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে পালমারের প্রথম দুটি গোল আসে পেনাল্টি থেকে। ১৩ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ৩৫ মিনিটে আবারও পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান। মাত্র তিন মিনিট পর, ৩৮তম মিনিটে মার্ক কুকুরেল্লার নিচু ক্রসে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। প্রথমার্ধেই ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে পালমার চেলসির ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবটির হয়ে সর্বাধিক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড এখন তার দখলে—মোট চারটি। এর আগে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, দিদিয়ের দ্রগবা ও জিমি ফ্লয়েড হাসেলবাইঙ্ক তিনটি করে হ্যাটট্রিক করে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।
নিচে চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক হ্যাটট্রিকধারীদের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | হ্যাটট্রিক সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| কোল পালমার | ৪ | সর্বোচ্চ, নতুন রেকর্ডধারী |
| ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড | ৩ | ক্লাব কিংবদন্তি মিডফিল্ডার |
| দিদিয়ের দ্রগবা | ৩ | সাবেক তারকা স্ট্রাইকার |
| জিমি ফ্লয়েড হাসেলবাইঙ্ক | ৩ | ২০০০ দশকের শুরুর দিকের গোলদাতা |
পালমারের এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি চেলসির আক্রমণভাগে তার প্রভাব ও নেতৃত্বেরও প্রমাণ। মাঝমাঠ থেকে খেললেও গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, পেনাল্টি নেওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং বক্সের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার বুদ্ধিমত্তা তাকে দ্রুতই দলের অন্যতম ভরসাস্থলে পরিণত করেছে।
মাত্র কয়েক মৌসুমের পেশাদার ক্যারিয়ারে এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তবে প্রিমিয়ার লিগের আরও বহু রেকর্ডের পাতায় কোল পালমারের নাম উজ্জ্বল হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার পারফরম্যান্স যেন জানিয়ে দিচ্ছে, ইংলিশ ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের উত্থান ঘটেছে।
