খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই নভেম্বর ২০২৫, ৪:০ পিএম

যশোর শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহর। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে এই এলাকার উপশহর পার্ক সংলগ্ন স্থানে পার্কিং করা একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তরা নাশকতামূলকভাবে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় জানমালের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী বস্তির বাসিন্দারা। স্থানীয়দের ত্বরিত হস্তক্ষেপ ও সাহসিকতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় একটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা।
যশোর-মাগুরা রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ‘রাহিন স্পেশাল’ নামক একটি বাস (মাগুরা জে-১১-০০০৭) প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতে উপশহর পার্কের পাশে নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করা হয়। বাসের সুপারভাইজার হান্নান খান জানান, তিনি সারা রাত বাসের ভেতরেই অবস্থান করেছিলেন। ভোর হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাস থেকে নেমে কিছুটা দূরে নিজের বাসায় যান। ঠিক এর কিছুক্ষণ পরই তিনি লোকমুখে শুনতে পান যে তাঁর বাসে আগুন জ্বলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় ভোরের হালকা অন্ধকার ছিল। এই সুযোগে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত বাসটির চালকের আসনের পাশের জানালা ভেঙে ভেতরে দাহ্য পদার্থ বা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসের জানালা দিয়ে আগুনের শিখা বের হতে দেখে স্থানীয় নৈশপ্রহরী ও বস্তিবাসী দ্রুত চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বালু ও পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আগুনে বাসটির অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও যাত্রীদের বসার আসনগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চালকের কেবিন এবং সামনের দিকের অন্তত ১০-১৫টি আসন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত আগুনের তাপ বাসের ইঞ্জিনে পৌঁছানোর আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসের মালিক।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়টি ছিল বাসটির অবস্থান। যেখানে বাসটি পার্কিং করা ছিল, তার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি। বস্তির ঘরগুলো সাধারণত কাঠ, বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেখানে আগুন লাগলে তা মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, যদি ভোরবেলায় মানুষজন দ্রুত জেগে না উঠতেন, তবে কয়েকশ ঘর ভস্মীভূত হতে পারত এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল।
মন্তব্য