,

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ‘১১৫’ অভিযোগ: কেন থমকে আছে প্রিমিয়ার লিগের আলোচিত বিচার

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও জটিল আইনি প্রক্রিয়াগুলোর একটি—ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা বহুল আলোচিত ‘১১৫ অভিযোগ’—এখনও নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় ঝুলে আছে। তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই মামলার চূড়ান্ত রায় না আসায় কৌতূহল, অনিশ্চয়তা এবং বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। কেবল একটি ক্লাব নয়, বরং পুরো ইংলিশ ফুটবলের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে এই মামলার সঙ্গে।

অভিযোগের ধরন ও পরিধি

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল, প্রকৃত আয় গোপন করা, স্পনসরশিপ আয়ের তথ্য বিকৃত করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা। অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালকে ঘিরে।

যদিও ‘১১৫ অভিযোগ’ নামটি বেশি পরিচিত, বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকৃত নিয়মভঙ্গের সংখ্যা ১৩০-এর কাছাকাছি হতে পারে। কারণ, কিছু অভিযোগ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত বা ওভারল্যাপিং। এ ছাড়া তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্ভাব্য শাস্তি

যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তির পরিধি হতে পারে নজিরবিহীন। জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কাটা, লিগ শিরোপা বাতিল, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য ক্লাবগুলো ক্ষতিপূরণ দাবি করলে সেটিও বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তদন্তের সূচনা ও অগ্রগতি

২০১৮ সালে ‘ফুটবল লিকস’ নামে পরিচিত তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে এই তদন্তের সূচনা হয়। পরে ২০২১ সালে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর তদন্ত জোরদার হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো তুলে ধরা হলো—

ধাপসময়কালবিবরণ
তদন্ত শুরুডিসেম্বর ২০১৮ফুটবল লিকস প্রকাশ
প্রকাশ্য অগ্রগতিমার্চ ২০২১আদালতের অনুমতি
শুনানি শুরুসেপ্টেম্বর ২০২৪লন্ডনে কার্যক্রম শুরু
শুনানি শেষডিসেম্বর ২০২৪প্রাথমিক শুনানি সমাপ্ত
প্রত্যাশিত রায়২০২৫ (প্রত্যাশিত)এখনও প্রকাশ হয়নি

রায় বিলম্বের কারণ

এই মামলার বিলম্বের প্রধান কারণ এর জটিলতা। প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ। শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা প্রমাণ করা আরও কঠিন।

রায় দিচ্ছে একটি স্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল, যাদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। তারা পূর্ণকালীনভাবে এ মামলায় কাজ করছেন না—অন্য দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বাড়ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রায়ের সঙ্গে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এই ব্যাখ্যাই ভবিষ্যতের আপিলের ভিত্তি হবে। ফলে সিদ্ধান্তে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না।

সমঝোতার সম্ভাবনা

গোপনে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি প্রিমিয়ার লিগ ও ম্যানচেস্টার সিটি পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে আংশিক দোষ স্বীকার, আর্থিক জরিমানা এবং সীমিত পয়েন্ট কর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে এর জন্য লিগের সব সদস্য ক্লাবের সম্মতি প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ কী

রায় যাই হোক, আপিলের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে এই মামলা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে প্রিমিয়ার লিগের ভাবমূর্তি যেমন চাপে পড়বে, তেমনি ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকবে।

সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি আইনি মামলা নয়—বরং আধুনিক ফুটবলের আর্থিক কাঠামো ও নৈতিকতার বড় পরীক্ষা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।