,

চার গোল খেলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে মন জিতল ভারত

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াই করে ৪-০ গোলে হেরেছে ভারত। প্রীতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেও স্বাগতিক দলের লড়াকু মানসিকতা গ্যালারিভর্তি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত শুধু ফলের হিসাবেই আটকে থাকেনি; ব্রাজিলের তারকাদের সামনে ভারতীয় ফুটবলারদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টাও হয়ে উঠেছিল বড় আকর্ষণ।

ম্যাচের আগে আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল ভারত কত গোলের ব্যবধানে হারতে পারে—এমন প্রশ্ন। কারণ প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, যাদের দলে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো বিশ্বমানের তারকা। কিন্তু মাঠে নামার পর ভারত শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত চার গোল হজম করলেও ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তারা ব্রাজিলের আক্রমণ সামলেছে এবং সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে।

গ্যালারির দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি মাঠে দেখা। বল পায়ে ব্রাজিলের এই তারকা যখন গতি বাড়িয়ে আক্রমণে উঠছিলেন, তখন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারি থেকে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের সমর্থকদের কাছে ফলাফলের পাশাপাশি এমন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল উপভোগ করার সুযোগটিও ছিল বড় প্রাপ্তি।

ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল আক্রমণে উঠে আসে। ভিনিসিয়ুসের একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। সেই সেভের পর গ্যালারিতে মুহূর্তেই উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। ভারতের গোলরক্ষকের প্রতিরোধই তখন স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

তবে ২৮ মিনিটে আর ভারতকে রক্ষা করা যায়নি। বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে এস্তেভাও বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন। বলটি গুরপ্রীতের নাগালের মধ্যেই এসেছিল, কিন্তু শটের গতি এত বেশি ছিল যে তিনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তাঁর হাতের নিচ দিয়ে বল পোস্টে লেগে জালে চলে যায়।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে এস্তেভাও বক্সের মধ্যে পেদ্রোর উদ্দেশে চমৎকার পাস বাড়ান। শট নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন পেদ্রো। গুরপ্রীত সামনে এগিয়ে পা বাড়িয়ে বল ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর ডান হাতের গ্লাভসে লেগে বল শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকে ভারত।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ভিনিসিয়ুসকে তুলে নিয়ে স্যামুয়েল লিনোকে মাঠে নামায়। বদলি হিসেবে নেমেই আক্রমণে প্রভাব ফেলেন তিনি। ৫৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মাউরো জুনিয়রের কাছ থেকে পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ে জায়গা তৈরি করেন লিনো। এরপর শক্তিশালী শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের প্রথম গোলটি করেন।

ম্যাচের বাকি সময়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় ভারত। তবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তেও আক্রমণ চালিয়ে যায় ব্রাজিল।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আবারও গোল করেন লিনো। এর মধ্য দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি ব্রাজিলের জয় ৪-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেন তিনি।

স্কোরলাইন ভারতের জন্য বড় পরাজয়ের সাক্ষ্য দিলেও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে ভারতীয় খেলোয়াড়দের চেষ্টা, গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ এবং বিশ্বের পরিচিত তারকাদের সরাসরি দেখার সুযোগ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি দর্শকদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

ফুটবলে শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সরকারি হিসাব হিসেবে থেকে যায়। তবে প্রীতি ম্যাচের ক্ষেত্রে দর্শকদের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের দলের বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা এবং এমন ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কলকাতার এই ম্যাচে ভারত জয় পায়নি, কিন্তু ৫০ হাজার দর্শকের সামনে তাদের লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।