মুন্সিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা: ককটেল ও গুলিতে আহত ৪

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনের নির্বাচনী লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন। আজ শনিবার দুপুরে স্বতন্ত্র তথা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের গণসংযোগে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিকান্দি গ্রামে সংঘটিত এই হামলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও ছররা গুলির আঘাতে চারজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শনিবার সকাল থেকেই ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকেরা মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিছিলটি মুন্সিকান্দি গ্রামে পৌঁছালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার অনুসারীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উজির আহমেদের লোকজন অতর্কিতভাবে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ছররা গুলিতে বেশ কয়েকজন বিদ্ধ হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উজির আলীর বাড়ির নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়।


আহতদের তথ্য ও চিকিৎসার অবস্থা

হামলায় আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আতাউল করিম জানান, আহতদের শরীরে ককটেলের স্প্লিন্টার এবং ছররা গুলির গভীর ক্ষত রয়েছে।

আহত ব্যক্তির নামআঘাতের ধরনবর্তমান অবস্থা
মো. লিজনছররা গুলি ও স্প্লিন্টারউন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ
নুরুদ্দিনচোখ ও শরীরের আঘাতউন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ
ফয়সাল হোসেনককটেলের স্প্লিন্টারস্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
মো. নিরবশরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমপ্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে

স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক সমীকরণ

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। অন্যদিকে, ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন। রাজনৈতিক এই বিভাজন স্থানীয় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধকে উসকে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াহিদ-আতিক মল্লিক গ্রুপের সঙ্গে উজির-আওলাদ গ্রুপের চরম বিরোধ চলছে। গত বছরের নভেম্বর মাসেও এই দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষ এখন ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের ব্যানারে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের অজুহাতে তারা মূলত তাদের পুরনো শত্রুতাই ঝালিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর পরই মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যারা এই ন্যাক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনী মাঠের এই সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে।