আলোচিত ও সমালোচিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল আবারও আইনগত জটিলতায় পড়লেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা করার এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপি ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নোবেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও হেনস্তার একটি মামলা আছে। আদালতের নির্দেশক্রমে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে নোবেলকে ডেমরা থানা হাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, অভিযোগকারী তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, নোবেল একদিনের জন্য তাকে তার নিজস্ব স্টুডিওতে আটকে রাখেন এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্য চাপ দেন। ভুক্তভোগী এই ঘটনার পর মানসিক এবং সামাজিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।
পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। একই দিন আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট জারি করেন। ডেমরা থানা পুলিশ সেই ওয়ারেন্ট তামিল করে তাকে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার ক্রমসার সংক্ষেপ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা | স্থান | সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি |
|---|---|---|---|
| ১৩ আগস্ট, ২০২৫ | তরুণী মামলাটি দায়ের করেন | না জানা | ভুক্তভোগী তরুণী |
| ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা | না জানা | পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন |
| ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | আদালত ওয়ারেন্ট জারি | না জানা | আদালত |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | নোবেল গ্রেফতার | বটতলা, সিদ্দিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ | ডেমরা থানা পুলিশ |
পরিদর্শক মুরাদ হোসেন বলেন, “নোবেলের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশক্রমে চলছে। আইনমাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে এবং আদালতে সাপোর্টের জন্য প্রেরণ করা হবে।”
বিগত বছরগুলোতে নোবেল বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন। এ ঘটনায় পুনরায় তার ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ন্যায্যতা যাচাই করার জন্য তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
