মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশুর মাথা থেকে গুলি বের করা যায়নি, জীবন ঝুঁকিতে

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয় বছরের শিশু হুজাইফা আফনান মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া একটি গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলি তার মুখের ডান পাশে ঢুকে সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত করেছে, ফলে তার জীবন বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা জটিল অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করতে সক্ষম হননি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গুলি এমন একটি বিপজ্জনক স্থানে আটকে আছে, যেখানে সরাসরি বের করার চেষ্টা শিশুটির জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। শিশুর মস্তিষ্কে জমাটবাঁধা রক্ত অপসারণ এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা তার খুলি খুলে আপাতত ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছেন।

চমেকের আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, “শিশুটির অবস্থার জটিলতা বিবেচনা করে আমরা জীবন রক্ষার জন্য এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছি। গুলি সরাসরি বের করতে গেলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

হুজাইফা লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পিতা-মাতা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পিতা মোহাম্মদ জসিম বলেন, “একজন বাবা হিসেবে এটি সবচেয়ে কষ্টের ঘটনা। এমন হঠাৎ হামলার শিকার আর কোনো শিশু যেন না হয়, এজন্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানাই।” শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদও রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টার দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা গুরুতরভাবে আহত হন। বিকেলে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় শিশুটি লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং রাতের একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, “শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। আইসিইউ ও নিউরো সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।”

স্থানীয়রা সোমবার দুপুরে টেকনাফ হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে মানববন্ধন আয়োজন করে, যেখানে তারা শিশুর দ্রুত চিকিৎসা ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। বক্তারা সীমান্ত এলাকায় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

চমেক হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আরও একজন, ২২ বছর বয়সী কেফায়েত উল্লাহ, ভর্তি হয়েছেন। তিনি টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমার কুল রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন রয়েছেন যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।

প্রাথমিক তথ্যসমূহের সংক্ষিপ্ত টেবিল:

নামবয়সপিতাঅবস্থানআহতের সময়চিকিৎসা অবস্থা
হুজাইফা আফনান9মোহাম্মদ জসিমটেকনাফ, হোয়াইক্যংরোববার ৯:০০ এএমআইসিইউ, লাইফ সাপোর্টে
কেফায়েত উল্লাহ22নজির উদ্দিনচাকমার কুল রোহিঙ্গা শিবির, টেকনাফসোমবারচমেক হাসপাতালে ভর্তি