আরাগচি জানালেন, যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার (১২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, আমরা প্রস্তুত। তবে আশা করি তারা বুদ্ধিমানের মতো কূটনৈতিক আলোচনা বেছে নেবে।”

আরাগচি আরও বলেন, “গত বছরের জুনে ইরান যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছিল, সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আমাদের সামরিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত এবং শক্তিশালী।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনছে, তাদেরকে উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।”

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান অভ্যন্তরীণ আন্দোলনকেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিক্ষোভে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করেছে, যারা সাধারণ বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।” ২০২২ সালের পর এটি ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। শুরুতে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।

ইরানীয় পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
বিক্ষোভের শুরুর তারিখ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রধান কারণমূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, রাজনৈতিক ক্ষোভ
দেশের প্রতিক্রিয়ানিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করছে
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানপ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপের হুমকি, বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি
ইরানের অর্থনৈতিক উদ্যোগপ্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন

ইরান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করার পথে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ আন্দোলন একসঙ্গে চলার কারণে তেহরান কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ও কূটনৈতিক আলোচনার ভিন্নতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। আরাগচির হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরান শুধু আলোচনার জন্য নয়, যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।