বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল সম্প্রতি জানিয়েছেন, চলমান ক্রীড়া বিতর্কের মধ্যেও দেশটি এ বছর দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের জনপ্রিয় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই টুর্নামেন্ট ঢাকা ছাড়াও প্রথমবারের মতো দুইটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাফুফে ভবনে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে ক্রীড়া উপদেষ্টা ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে উন্নীত করার ঘোষণাও দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত ভেন্যুসমূহের তথ্য
| ক্রমিক | শহর | পরিকল্পিত মান উন্নয়ন | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ১ | ঢাকা | বিদ্যমান স্টেডিয়াম রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেড | মূল ম্যাচ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান |
| ২ | চট্টগ্রাম | আন্তর্জাতিক মানের মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়ন | গ্রুপ স্টেজ ও সেমিফাইনাল ম্যাচ |
| ৩ | সিলেট | স্টেডিয়াম আধুনিকীকরণ ও ভেন্যু ব্যবস্থাপনা | গ্রুপ স্টেজ ম্যাচ ও ফ্যান জোন সম্প্রসারণ |
বাফুফে কর্মকর্তারা বৈঠকের পর ভারত সফর সংক্রান্ত কথাবার্তাও করেছেন। আসিফ নজরুল বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কোনো স্থানে খেলতে না যাওয়ার সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল মন্তব্য করেছেন, ‘ফুটবলকে আমরা সবসময় ক্রীড়ার চোখে দেখি। প্রতিবেশী দেশ ভারতও আমাদের সঙ্গে খেলে এসেছে, এবং এ ধরনের বিতর্ককে ফুটবলের বাইরে নেওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বছরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে আমরা দেশের ফুটবলকে আরও বিস্তৃত করতে চাই। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেটেও খেলা আয়োজনের লক্ষ্যটি এ ভাবেই এসেছে। এর ফলে টুর্নামেন্ট জমজমাট হবে এবং আমরা স্বাগতিক হিসেবে একটি সফল আয়োজনের প্রতিযোগিতা প্রদর্শন করতে পারব।’
বাংলাদেশের এই উদ্যোগ কেবল খেলোয়াড় ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উৎসাহের নয়, দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের দুটি শহরে আন্তর্জাতিক মানের মাঠ নির্মাণ ও আপগ্রেডের ফলে স্থানীয় যুব ফুটবলারদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হলে, বাংলাদেশ শুধুমাত্র স্বাগতিক হিসেবে খেলবে না, বরং এ অঞ্চলের ফুটবল সংস্কৃতিকে উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও দেখাবে। দেশের বিভিন্ন অংশে ফুটবল খেলার প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু তৈরি করা হবে এ বছরের প্রধান লক্ষ্য।
