ঢাকার সাভারে এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুই শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ঈশান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১২, ১৩ ও ১৫ বছর। তারা ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অপর দুজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন (২১) ও মো. কামরুল ইসলাম (২৬)। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিন কিশোর ও শিক্ষক জাবের হোসেন ভুক্তভোগী শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। অন্যদিকে, শিশুটি যাতে পরিবারের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ না করে, সে জন্য তাকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের বক্তব্য বা মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গত ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসায় তাঁর সন্তানকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। পরে আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ওই মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী, চার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রয়েছেন। পাঁচ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তিন শিক্ষক ও মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে।
মামলাটি সামনে আসার পর পুলিশ তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করে। এরপর সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে একাধিক জেলায় অভিযান চালানো হয়। একই ঘটনায় বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় তদন্তে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং প্রত্যেক আসামির ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশান বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
শিশু নির্যাতনের এমন অভিযোগে তদন্তের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ।









