রাজধানীর কাফরুলে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের এক শিশুকে শরীয়তপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুথী আক্তার নামে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় বাসার বাইরে খেলতে বের হয়েছিল শিশুটি। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হলেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় পরে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
শিশুটির সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এ সময় আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য পর্যালোচনা করা হয়। একটি ফুটেজে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই দৃশ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটিকে শরীয়তপুরের দিকে নেওয়া হয়েছে। পরে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং যুথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে বাবা-মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুথী আক্তারকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে শিশুটিকে কী উদ্দেশ্যে রাজধানীর বাইরে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।









