ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জহিরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি জেলা ছাত্রদলের নেতাদের নজরে আসার পর প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ধোপা জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির পাশাপাশি তিনি গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে জহিরুল ইসলাম মাদকসদৃশ বস্তু সেবন করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে জেলা ছাত্রদলের নেতারা এ বিষয়ে অবগত হলে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তিতে তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, জহিরুল ইসলামের মাদকসদৃশ বস্তু সেবনের একটি ভিডিও ক্লিপ তাঁদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
নুরুজ্জামান সোহেলের ভাষ্য অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিডিও ক্লিপ ও অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠলে সেটির সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রেও ভিডিওটির যথার্থতা এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল। এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বিবেচনার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।









