আহত মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে নিজের দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাতে এবং বাঁ পায়ের ঊরুতে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে প্রথমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, কী কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান তাঁদের পরিচিত এবং তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক মাত্র। তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ২০২০ সালেও ওই ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিজানের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবারও মুখোশধারীরা তাঁর দোকানে ঢুকে গুলি চালিয়েছে। তবে হামলাকারীরা মুখোশ পরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের আগে হামলাকারীদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দোকানে প্রকাশ্যে ঢুকে একজন ব্যবসায়ীকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত এবং আহত ব্যবসায়ীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।









