,

মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্য

সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বকচরা বাইপাসসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোস্তাইন বিল্লাহ (৩০) ও নাজমুল (২৮)। মোস্তাইন বিল্লাহ জেলা পুলিশের স্টাফ ফোর্স (এসএফ) শাখায় কর্মরত। এর আগে তিনি জেলা ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরজন নাজমুল জেলা পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা বাইপাসসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়কে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে সোমবার বেলা তিনটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবির একটি দল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি মোটরসাইকেলে থাকা মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ডিবি সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। তল্লাশি চালিয়ে মোস্তাইন বিল্লাহর ট্রাউজারের পকেট থেকে ১০০ মিলিলিটারের দুটি বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে আরও ৫৪ বোতল সিরাপ পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা বোতলগুলোর গায়ে ‘কোডিন ফসফেট অ্যান্ড ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সিরাপ’ লেখা ছিল। অভিযানে নিবন্ধনহীন একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে ডিবির একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্তও করছেন ওই কর্মকর্তা। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। মঙ্গলবার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) সরোয়ার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে মাদক ব্যবসা করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের এই বক্তব্যের সত্যতা ও অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে যাচাই করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, উইনসেরেক্স সিরাপ ফেনসিডিলের মতো মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ফেনসিডিলে থাকা কোডিন ফসফেটের মতো উপাদান উইনসেরেক্সেও রয়েছে এবং নাম পরিবর্তন করে এটি বিক্রি করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকেই সাধারণ মানুষ অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন। সেই বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করারও দাবি জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলাও করা হবে। তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তুতিও চলছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশেরই দুই সদস্য মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

Tags :

মুরসালিন মাহমুদ তাইসিন | সাব-এডিটর । GLive24.com

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।