নড়াইলের লোহাগড়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মিসকান সরদার (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এক নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মিসকান ওই গ্রামের লোকমান সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় মিসকান সরদারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সারফিনা বেগম জানান, প্রতিপক্ষের আসলামসহ কয়েকজন মিসকান ও অন্যদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে গুরুতর আহত মিসকানের মৃত্যু হয়।
হামলার পর আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে মিসকানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্য আহতদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়াও চলছে।
পুলিশ জানায়, নিহত মিসকান সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো সংঘাত যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার পেছনে আধিপত্য বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একজনের মৃত্যুর পাশাপাশি একই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ায় মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
এ ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং হামলার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও মামলার পর তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










