হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও জস বাটলারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সাউদাম্পটনে রানের পাহাড় গড়েছিল ইংল্যান্ড। পরে বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে শুরু থেকেই চাপে রেখে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৯ রানের বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানের জয়ও তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে ২৫৪ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ২৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভারে ১৩৫ রানেই অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে ১১৯ রানের জয় পায় ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি রানের ব্যবধানে চতুর্থ সর্বোচ্চ জয়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই দেখা যায় আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চিত্র। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আনিউরিন ডোনাল্ড প্রথম ওভারেই মহীশ তিকশানাকে একটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। যদিও বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। ১২ রান করে ডোনাল্ড ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন হ্যারি ব্রুক।
অন্য প্রান্তে তখন ঝড় তুলছিলেন জস বাটলার। দুশমন্থ চামিরার এক ওভারে টানা চারটি বাউন্ডারি মেরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। বাটলারের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্রুকও দ্রুত রানের গতি বাড়াতে থাকেন।
পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই ইংল্যান্ড তুলে নেয় ৯০ রান। পঞ্চম ওভারে ডুনিথ ভেল্লালাগের বোলিংকে পুরোপুরি কাজে লাগান ব্রুক। ওই ওভারে তিনটি ছক্কা ও তিনটি চার মেরে মোট ৩০ রান আদায় করে নেন তিনি।
বাটলার ২৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ব্রুক ছিলেন আরও দ্রুত। মাত্র ২০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার। ১০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৪ রান, যা বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
ব্রুক-বাটলারের জুটিতে বড় সংগ্রহ
বাটলার ও ব্রুকের জুটি শ্রীলঙ্কার বোলারদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। একদিকে বাটলার নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে রান তুলছিলেন, অন্যদিকে ব্রুক বড় শট খেলে স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন।
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে আউট হওয়ার আগে বাটলার ৪৪ বলে ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। ব্রুকের সঙ্গে তিনি ৬০ বলে ১২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এই জুটিই ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত এনে দেয়।
বাটলার ফিরে যাওয়ার পরও ব্রুকের ব্যাট থামেনি। বরং শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে সাউদাম্পটনে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন ব্রুক। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন। ব্রুকের ৪২ বলে করা সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় দ্রুততম শতকও।
সেঞ্চুরির আরেকটি মাইলফলক
দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে শতকের সংখ্যাতেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ব্রুক। তার নামের পাশে এখন দুটি সেঞ্চুরি। একই সংখ্যক শতক রয়েছে জস বাটলারেরও। ফলে দুজন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। চারটি সেঞ্চুরি নিয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছেন ফিল সল্ট।
ব্রুকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ২০ ওভারে চার উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার সামনে তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫৫ রান।
শুরুতেই ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কা
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৩২ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে বড় জুটি ছাড়া ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না সফরকারীদের। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় জুটি আর গড়ে উঠেনি।
ডুনিথ ভেল্লালাগে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। দাসুন শানাকার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। তবে বাকি ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কার রান তোলার গতি কখনোই প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
একপর্যায়ে উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স
ব্যাটারদের তৈরি করা বিশাল স্কোরকে সফলভাবে রক্ষা করেন ইংল্যান্ডের বোলাররা। সনি বেকার তিনটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। জেমি ওভারটন ও লিয়াম ডসন নেন দুটি করে উইকেট।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে কোনো বড় জুটি তৈরি হতে না দেওয়াই ইংল্যান্ডের বোলিং সাফল্যের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। শুরুতেই তিন উইকেট হারানোর পর চাপ কাটিয়ে ওঠার মতো ব্যাটিং করতে পারেনি সফরকারীরা।
ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান হ্যারি ব্রুক। তার দ্রুততম সেঞ্চুরি, বাটলারের ৮০ এবং বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্সে প্রথম ম্যাচেই সিরিজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইংল্যান্ড।
তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল। সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় ফেরার লক্ষ্য থাকবে শ্রীলঙ্কার, আর ইংল্যান্ড চাইবে ব্যবধান আরও বাড়াতে।









