চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে দেশে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। শ্রমিক–কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ঘোষণা করেছে, আসন্ন বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্দরমুখী প্রধান তিনটি প্রবেশপথ—আগ্রাবাদ, বড়পোল ও মাইলের মাথায় কঠোর অবরোধ পালিত হবে। ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক–বিক্ষোভের লক্ষ্য, সরকারের ইজারা–নীতি বন্ধ করা এবং বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।
স্কপের শ্রমিক কনভেনশনে কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার অভিযোগ করেন, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকার ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে’। তাঁর দাবি, এনসিটি নিয়ে মামলা চলমান, হাইকোর্টও স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে সিদ্ধান্তে অগ্রগতি করা যাবে না—কিন্তু সরকার গোপনে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাহার বলেন, “২৫–২৭ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠকে চুক্তির ভেটিং ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এটি শ্রমিক সমাজ মেনে নেবে না।” তিনি শ্রমিকদের রাজপথে নেমে ‘বন্দর রক্ষার লড়াই’তে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কনভেনশনে উপস্থিত শ্রমিক–নেতারা উল্লেখ করেন, বন্দর কৌশলগত দিক থেকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। বিদেশি অপারেটরদের হাতে নিয়ন্ত্রণ গেলে দেশের বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও শ্রম পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “শুধু শ্রমিক নয়, ব্যবসায়ী সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় শিল্প–নীতি ও বন্দর ব্যবস্থাপনা রক্ষায় সম্মিলিত অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
এই সম্মেলনে স্কপ ৯ দফা দাবি—যেমন ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা, অভিন্ন শ্রম আইন, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি, আউটসোর্সিং বন্ধ, রেশন–আবাসন–হাসপাতাল সুবিধা নিশ্চিতকরণ—পুনর্ব্যক্ত করে। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শ্রমিক আন্দোলনকে আরও সংগঠিত ও সমন্বিত করার ওপর জোর দেন।
