বাউরবাগে ডাকাত চক্রের তিন সদস্য আটক

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক গুলি এবং ব্যবহৃত একটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানে ছয় থেকে সাত সদস্যের একটি ডাকাত দল সশস্ত্র অবস্থায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে ডাকাত দল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তারা একপর্যায়ে একটি গুলি ছোড়ে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় দলেরই এক সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

আটক আতিকের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান এবং ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ এপ্রিল সিলেট জেলার সিলাম এলাকা এবং হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ডাকাত দলের অন্যতম সর্দার রুবেল মিয়া এবং আরেক সদস্য আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ভোরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলাবাগান থেকে আরও একটি দেশীয় পাইপগান এবং একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে মোট দুটি দেশীয় পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধে ১১টি মামলা এবং আহত আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। আহত আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ ধারণা করছে, এই চক্রটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের একটি সক্রিয় অংশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।

পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা৩ জন
প্রধান আসামিরুবেল মিয়া
আহত ও আটক সদস্যসৈয়দ শামসুর রহমান আতিক
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র২টি দেশীয় পাইপগান
উদ্ধারকৃত গুলি২১ রাউন্ড তাজা গুলি
অন্যান্য উদ্ধার১টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা
অভিযান এলাকামৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থান

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ডাকাত চক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নির্মূল করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই পলাতক সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।