ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে রাব্বি (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পাসপোর্ট অফিস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসকান্দা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন রাব্বিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
নিহত রাব্বি মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ছিলেন। পাসপোর্ট অফিস সড়কের সামনে তার কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান ছিল। ওই এলাকায় পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চললে তা একপর্যায়ে সহিংস সংঘাতে রূপ নেয়। তবে সংঘর্ষের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ, পূর্ববিরোধের ধরন এবং হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো সংঘাত যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।









