চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবাকে গাছের গুঁড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২৬ বছর বয়সী বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর আত্মগোপনে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার বোরহান উদ্দিন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, বাবাকে হত্যার মামলায় আসামি হওয়ার পর তিনি দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন এবং ওমানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে কোকদণ্ডী গ্রামের নিজ বাড়িতে মোহাম্মদ শাহজাহান (৫৫) তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে রুবি আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন সেখানে উপস্থিত হন বোরহান।
অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে বোরহান একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাঁর বাবার ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাহজাহানের মৃত্যুর পর ঘটনাটি হত্যার মামলায় রূপ নেয়। নিহতের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় বোরহান উদ্দিনের পাশাপাশি তাঁর বোন রুবি আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই বোরহান আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এর মধ্যেই বোরহান দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেন। ওমানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পুলিশের একটি দল তাঁকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। ফলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, বাবাকে হত্যার মামলার আসামি বোরহান উদ্দিন ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি রুবি আক্তারকেও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর বোরহানকে মামলার আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে। ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, হামলার প্রকৃত কারণ, ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এ ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দেশত্যাগ ঠেকানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর। বিমানবন্দর থেকে বোরহানের গ্রেপ্তার সেই দিক থেকেও তদন্তে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
তবে মামলায় কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তা তদন্ত ও আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাতেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিল, তদন্তে এখন সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে।









