,

মব করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. জাওয়াদুল হকের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগত হঠাৎ তার কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। এ সময় তারা স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা উপাচার্যকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন ডা. জাওয়াদুল হক।

স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর উপাচার্যের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ডা. জাওয়াদুল হক।

এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি নিয়ে অসন্তোষ। ডা. জাওয়াদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ঠিকাদারদের পরিবর্তে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার ওপর চাপ তৈরি করা হয়। তবে এসব কাজ কী ধরনের, কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে কিংবা অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ রয়েছে কি না—তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, ঘটনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং তারা কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। ফলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দাবির বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

উপাচার্যের অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বাক্ষর যদি সত্যিই জোরপূর্বক নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পদত্যাগপত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধানের পদত্যাগ সাধারণত নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা। চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ আদায়ের অভিযোগ সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং ডা. জাওয়াদুল হকের স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সামনে এলে উপাচার্যের পদত্যাগের প্রকৃত পরিস্থিতি, ঠিকাদারি নিয়ে অভিযোগ এবং কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে বের করে দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।