মাদারীপুর সদর উপজেলায় ইট ভাঙার মেশিনের নিচে চাপা পড়ে আরিয়ান নামে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নয়াচর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিয়ান নয়াচর এলাকার আরমান খাঁর ছেলে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে চরমুগরিয়া এলাকা থেকে কয়েকজন শ্রমিক একটি ইট ভাঙার মেশিন নিয়ে গুচ্ছগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় শিশুটি ওই মেশিনের নিচে পড়ে যায়। ভারী যন্ত্রের চাপায় গুরুতর আহত হয় সে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে আরিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নয়াচর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রাও এমন মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন। মাত্র ছয় বছর বয়সী একটি শিশুর এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় মেশিনটি পরিবহনের সময় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মেশিনটি চরমুগরিয়া থেকে গুচ্ছগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। তবে ঠিক কীভাবে আরিয়ান মেশিনটির নিচে পড়ে গেল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার সময় মেশিনটির গতি, পরিচালনার পদ্ধতি কিংবা আশপাশে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মেশিনটির চালক বা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের সময় পথচারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে রাস্তা পারাপারের মতো পরিস্থিতিতে বড় যন্ত্রের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আরিয়ানের মৃত্যু সেই নিরাপত্তার বিষয়টিই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এদিকে, প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।









