,

চাঁদা দাবির মামলায় সাইমন কারাগারে

রাজধানীর বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষে সাইমনকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়, চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে সাইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ মামলার আরও তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডও তদন্তের প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছিল।

৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় মামলার প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোহান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয়। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা সেখান থেকে চলে যান। আহত সোহান প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে যোগ দেন।

ফের হামলা ও তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলির অভিযোগ

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে করে আবার ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সোহানকে ফের মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে কয়েকজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। পালানোর চেষ্টা করার সময় সাইমনও আটক হন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

প্রকাশ্য এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

আরও তিন আসামি কারাগারে

মামলায় সাইমনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আরও তিন আসামি হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)। তাদের প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

রিমান্ড শেষে সোমবার ওই তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মঙ্গলবার চার দিনের রিমান্ড শেষে সাইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করেন।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে অভিযোগের সত্যতা যাচাই

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাইমনের কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এখন সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

মামলার অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আসামিদের পারস্পরিক ভূমিকা এবং অভিযোগে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের অংশ হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী মামলার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আদালতের আদেশের পর সাইমনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া।

বাংলামোটর-নিউ ইস্কাটনের মতো ব্যস্ত এলাকায় চাঁদা দাবি, মারধর এবং গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ঘটনার পুরো চিত্র এবং মামলায় অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।