মনোরঞ্জন ধর (২১ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪ – ২২ জুন ২০০০) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিক। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম চারটি সংশোধনী তাঁর হাত ধরেই সম্পন্ন হয়।
Table of Contents
মনোরঞ্জন ধর । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
শৈশব জীবন
মনোরঞ্জন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ এবং এল.এল.বি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৮ – ১৯৪০ ‘গন-অভিযান’ সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
মনোরঞ্জন ধর ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে তিনি আইন পরিষদের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে তিনি কারাবরণও করেন।
তিনি ১৯৫৪ সালে আইন পরিষদ কর্তৃক গঠিত সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৫৬-৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্থ ও সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের আইন, সংসদ ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড পরবর্তীসময়ে তিনি মোশতাক আহমেদ মন্ত্রিসভায় আইন মন্ত্রী ছিলেন।

সংসদ সদস্য
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন। সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ
