ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে প্রাইভেটকার থেকে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক তরুণ ও এক তরুণীকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গুলশানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের র্যাব-১-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা থানা পুলিশের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে রাতে আসামিদের ভাঙ্গা থানায় নেওয়া হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হতে পারে।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে একটি প্রাইভেটকার থেকে এক তরুণ ও এক তরুণী ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে চা খেতে নামেন।
এ সময় সড়কের পাশে থাকা স্থানীয় কয়েকজন ওই তরুণকে প্রাইভেটকারটি কিছুটা পাশে সরিয়ে রাখতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণ গাড়ির কাছে গিয়ে একটি পিস্তল বের করেন এবং প্রকাশ্যে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুলির শব্দে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় দুজন আহত হন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। গুলি ছোড়ার ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে প্রকাশ্য সড়কে অস্ত্র বের করে গুলি করার দৃশ্য দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর ১৮ আগস্ট ভাঙ্গা থানার এসআই প্রশান্ত কুমার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মিজানুর রহমান। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার গুলশান এলাকায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব ও ভাঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ জন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানী ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অস্ত্রটি উদ্ধার করা গেলে মামলার তদন্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে গুলশানে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণ ও তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারের পর গ্রেফতার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ্য সড়কে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল একটি গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এখন গ্রেফতার দুজনের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার দিকে নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।









