ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে দুই নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি ও কথিত মূল পরিকল্পনাকারী মুজাহিদ ওরফে রাকিবকে (২২) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার সিলেটে এসআরবি-৯-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ মো. রিজাউল করিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মুজাহিদ সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।
মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘রাকিব’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে মুজাহিদ গত ৮ সেপ্টেম্বর সরাইলের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য একটি পেশাদার নৃত্যদলের সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তির সময় তিনি ২ হাজার টাকা অগ্রিম দেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে দলের এক তরুণ সহকর্মীর সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান। সেখানে মুজাহিদ ও তার সহযোগীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। পরে তাদের তিতাস নদীর শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি একটি নির্জন স্থানে যাওয়ার পর সেখানে আগে থেকে আরও তিন যুবক অস্ত্রসহ অবস্থান করছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্জন স্থানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে সঙ্গে থাকা তরুণ সহকর্মীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাঁচ যুবক দুই নারী শিল্পীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে গণধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্যাতনের পর রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানির মধ্যে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা নৌকায় করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে প্রথমে শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা মুজাহিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পান। এরপর এসআরবি-৯-এর একটি দল সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মুজাহিদকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তাকে সরাইল থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় অভিযুক্ত বাকি চারজনকে গ্রেফতারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসআরবি-৯-এর অধিনায়ক শেখ মো. রিজাউল করিম এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার অন্যান্য দিক যাচাই করা হচ্ছে।









