নিউজিল্যান্ড দলের মিডিয়া ম্যানেজার ক্যালাম কর্নয়ের বিস্ময় এখনও কাটেনি। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাঁকে ‘প্রকৃত প্রতিভা’ বলে উল্লেখ করেন। শুধু ক্যালামই নন, পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্কেও নাহিদকে নিয়ে প্রশংসা করেন। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের এমন প্রতিক্রিয়া নাহিদ রানার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচকে সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট নাহিদকে ঘিরেই বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তাঁর খেলার ধারাবাহিকতা, চোটের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—নাহিদ কি তাঁর বোলিংয়ে নতুন কোনো বৈচিত্র্য যোগ করতে যাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে টেইট সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আধুনিক ক্রিকেটে বিশেষ করে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে পেসারদের মধ্যে নানা ধরনের বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা থাকলেও নাহিদের ক্ষেত্রে এখনই অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, বর্তমানে নাহিদ যে পদ্ধতিতে বোলিং করছেন এবং যা কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে, সেটিই বজায় রাখা উচিত।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ রানার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র একটি বল ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার নিচে করেছেন। তাঁর নেওয়া উইকেটগুলোর ক্ষেত্রে গতি ও বৈচিত্র্যের সমন্বয় দেখা গেছে—ফুল লেংথ, বাউন্সার এবং ইয়র্কার—সব ধরনের ডেলিভারিই তিনি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন।
নিচে তাঁর উইকেট নেওয়ার বলগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বলের ধরন | উইকেট সংখ্যা | গতি (কিমি/ঘণ্টা) |
|---|---|---|
| ফুল লেংথ | ১ | ১৪১+ |
| বাউন্সার | ৩ | ১৪১+ |
| ইয়র্কার | ১ | ১৪১+ |
টেইটের মতে, নাহিদের বোলিংয়ে ইতিমধ্যেই স্লোয়ার বলের মতো বৈচিত্র্য রয়েছে, তবে তা প্রয়োজনে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পেসার কম গতির কারণে বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও নাহিদের ক্ষেত্রে উচ্চগতি ও কার্যকর বাউন্সারই প্রধান অস্ত্র।
তিনি আরও বলেন, নাহিদ বর্তমানে শর্ট বল ব্যবহার করে নিয়মিত উইকেট নিচ্ছেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন। তবে এই মুহূর্তে তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সহজভাবে বোলিং চালিয়ে যাওয়া এবং নিজের স্বাভাবিক গতিকে কাজে লাগানো।
নাহিদের ফিটনেস ও ধারাবাহিক গতিতে বল করার সক্ষমতাকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন টেইট। তাঁর মতে, নাহিদ একজন দক্ষ অ্যাথলেট, যাঁর শারীরিক গঠন ও সক্ষমতা তাঁকে কম চোটপ্রবণ করে তুলেছে।
এছাড়া, নাহিদের ইয়র্কার প্রসঙ্গে টেইট বলেন, সাম্প্রতিক ম্যাচে এই ডেলিভারি তাঁকে অতীতের এক সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে একজন পেসার টপ অর্ডার থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডার পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদের আউট করতে সক্ষম হতেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নাহিদের বোলিংকে কার্যকর ও পরিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
