,

বুমরাহদের চোট এড়াতে ভারতের ‘বুলেটপ্রুফ’ পরিকল্পনা

ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে পেসারদের চোটের ঝুঁকি কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে সেরা বোলারদের পাওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের অন্যতম প্রধান পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। তাঁকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিকল্প পেসারদের প্রস্তুত রাখার ওপরও জোর দিচ্ছে ভারতীয় দল। লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিশ্চিত করা।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে ভারত। এরপর দুই দলের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাদা ও লাল বলের ক্রিকেট মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মোট ১২টি ম্যাচ খেলার সূচি থাকায় পেসারদের ওপর কাজের চাপ সামলানো ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বোলারদের বিশ্রাম, প্রস্তুতি এবং ম্যাচে অংশগ্রহণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরিকল্পনা করছে দলটি।

ভারতের পেস বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল জানিয়েছেন, একাধিক বোলারকে নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। এতে কোনো পেসার বিশ্রামে থাকলে বা চোটের কারণে খেলতে না পারলে বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকে দ্রুত দলে নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মর্কেলের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ ও উইকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের প্রধান বোলারদের নির্বাচন আরও স্পষ্ট হবে। পরিস্থিতি বুঝে কাদের বেশি দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটিও তখন নির্ধারণ করা সহজ হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কয়েকজনের ওপর পুরো বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব না দিয়ে একাধিক কার্যকর বিকল্প প্রস্তুত রাখার দিকেই নজর দিচ্ছে ভারত।

এই পরিকল্পনায় আর্শদীপ সিংয়ের মতো তরুণ ও পরিশ্রমী পেসারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। মর্কেল আর্শদীপের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেওয়া এই বাঁহাতি পেসার লাল বলের ক্রিকেটেও ভালো করতে পারবেন।

আর্শদীপের মতো বোলারদের বিভিন্ন সংস্করণে প্রস্তুত রাখার পেছনে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্টের চাহিদা এক নয়। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত উইকেট নেওয়া ও রান নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব থাকে, ওয়ানডেতে দীর্ঘ স্পেলে কার্যকর বোলিং করতে হয়, আর টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে প্রয়োজন। তাই একাধিক সংস্করণে খেলার উপযোগী বোলার তৈরি করা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

মর্কেল জানিয়েছেন, প্রত্যেক বোলারকে তাঁর কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে বোলারদের পর্যায়ক্রমে খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিকল্পদের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়বে, অন্যদিকে নিয়মিত বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন বুমরাহও। তাঁর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারের ক্ষেত্রে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বুমরাহর বোলিংয়ের কার্যকারিতা, গতি ও বৈচিত্র্য ভারতের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে তাঁর ফিটনেস ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে ব্যবহার করা দলের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।

মর্কেল বলেন, দলের প্রত্যেক বোলারের জন্য ‘বুলেটপ্রুফ’ পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বর্তমান সিরিজের প্রয়োজন মেটানো নয়, সামনে ব্যস্ত সূচিতে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘন ঘন ম্যাচ খেলার কারণে পেসারদের ওপর শারীরিক চাপ বাড়ে। বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক সংস্করণে খেলা বোলারদের ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উপযুক্ত বিশ্রাম এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখার মাধ্যমে এই ঝুঁকি সামলানো সম্ভব।

ভারতের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং সিরিজের পরিস্থিতির ওপর। তবে বুমরাহসহ দলের প্রধান পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প বোলারদের তৈরি রাখার উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক মৌসুমে বোলিং আক্রমণের গভীরতা বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।