সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতা, আর্থিক সংকট এবং ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর দাবি, একসময় মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে ছেলেকে চিকিৎসা করিয়েছেন, কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং বড় করেছেন। অথচ বর্তমানে নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ছেলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি ছেলের কাছে চিকিৎসার জন্য টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে তাঁকে টাকা না দিয়ে জমি কেনার কথা বলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিজের সীমিত আয়ে ইমামতি করে সংসার চালানো এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তারপরও নানা মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন।
Table of Contents
মানুষের সাহায্যে ছেলের চিকিৎসা করানোর দাবি
ছেলের শৈশবের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ছোটবেলায় তাশরীফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন ছেলের চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, ইমামতি করে যে সামান্য অর্থ পেতেন, তা দিয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। এ কারণে বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছিল। অনেক কষ্টের পর ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এখনো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহায়তা চাওয়ার পর কিছু অর্থ পেয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে চিকিৎসার পরও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।
মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে একটি হলো, ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।
হেদায়েতুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। একসময় তাশরীফ তাঁকে জানান, তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন। এ জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চান এবং দোয়া করতে বলেন। ছেলে হিসেবে ক্ষমা চাওয়ায় তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দেন বলে জানান হেদায়েতুল্লাহ।
এরপর ছেলের কথায় ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও চাকরি ছাড়ার পর তিনি কোনো টাকা পাননি।
হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁর সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু সেখান থেকেও নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে বারবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায় না।
যোগাযোগ না পাওয়ার কষ্ট, কোরবানির মাংস নিয়েও অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, একসময় ছেলের পাশে ছিলেন, নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও তাকে বড় করেছেন। কিন্তু এখন ছেলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর খোঁজখবর রাখছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, ছেলের অর্থসম্পদ ও বন্ধুবান্ধবের অভাব নেই। অথচ নিজের অসুস্থতার সময় তাঁকে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর দাবি, তাশরীফ একবার কোরবানি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তখন তিনি ছেলেকে এলাকার মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ছেলের বন্ধুবান্ধবদের মাংস দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁকে এক টুকরো মাংসও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাশরীফের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের প্রসঙ্গ
জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
টঙ্গীর ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাশরীফ নিজের ফেসবুক পেজে নাবালক শিশুকে চুমু দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সেই বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়।
বর্তমানে বাবার করা অভিযোগ নতুন করে তাঁকে আলোচনায় এনেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে আলোচনা বা সমালোচনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এক বিষয় নয়। হেদায়েতুল্লাহর বক্তব্যের পাশাপাশি তাশরীফের প্রতিক্রিয়া এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।








