খুদেবার্তায় শাহজালাল রুমি লিখেছেন, ‘আমি এই দেশে আর নাই। এগুলা নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।’
একই বার্তায় টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। রুমির দাবি, অধ্যক্ষ একজন আলেম হয়েও অনেক মিথ্যা বলেছেন এবং এখনো বলে যাচ্ছেন। তবে তাঁর এ অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
গত ২১ অক্টোবর মাদ্রাসাটিতে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুর নিরাপত্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের পর শিশুটির বাবা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ঘটনার পর শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটির মাধ্যমে শিশুটির প্রতি সংঘটিত কথিত অপরাধের বিচার দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রতিষ্ঠার জন্য আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে।
পাল্টা মামলা দায়েরের পর থেকে শাহজালাল রুমিকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই সোমবার তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা জানালেন। তবে তাঁর দেশত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময়, গন্তব্য এবং এ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিশুটির বাবার দেশ ছাড়ার ঘোষণার পর মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে খুদেবার্তায় জানালেও স্বাধীনভাবে তাঁর অবস্থান বা দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষকের দায় নির্ধারণ এবং পাল্টা মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের নিষ্পত্তি—প্রতিটি বিষয়ই আইন অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।








