শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু ও নতুন করে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জন। অর্থাৎ, এ বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই বছরের পুরো বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর রোগটিতে প্রাণ হারান ৪১৩ জন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৫৭৫ জন।
এই পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আগের দুই বছরের বার্ষিক সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পূর্ণ বছরের হিসাবের সঙ্গে চলতি বছরের অসম্পূর্ণ সময়ের পরিসংখ্যান তুলনা করার ক্ষেত্রে সময়ের পার্থক্য মাথায় রাখা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা বমি বমি ভাব ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ হতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো উচিত। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক থাকা জরুরি।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আক্রান্ত রোগীদের যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। চলতি বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।









