বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে একটি রাবার বাগান থেকে অস্ত্রের মুখে ছয়জন শ্রমিককে অপহরণ করেছে একদল দুর্বৃত্ত। অপহৃতদের মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে বাগান মালিক ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের হাতিরডেরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টংকাবতী ইউনিয়নের হাতিরডেরা এলাকায় অবস্থিত ইসমাইল নামক এক ব্যক্তির রাবার বাগানে শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাগান সংলগ্ন বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতে সেখানে হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের জিম্মি করে এবং ছয়জন শ্রমিককে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।
অপহৃত শ্রমিকদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | শ্রমিকের নাম | বয়স | পেশা |
| ০১ | নুরুল আফসার | ১৯ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ০২ | মো. আরাফাত | ২২ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ০৩ | ইসমাইল | ২৪ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ০৪ | করিম উল্ল্যাহ | ২৬ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ০৫ | রমিত | ২৯ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ০৬ | সাকিব | ১৮ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
মুক্তিপণ দাবি ও হুমকি
বাগান মালিক ইসমাইল জানান, শ্রমিকদের অপহরণ করার পর দুর্বৃত্তরা তার সাথে যোগাযোগ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। একই সাথে তারা হুমকি দিয়েছে যে, দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে অপহৃত ছয় শ্রমিককে এবং পরবর্তীতে বাগান মালিককেও হত্যা করা হবে। এই ঘটনায় বাগান মালিক এবং অপহৃতদের পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বক্তব্য
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং ইয়াং ম্রো বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগলেও অপহৃতদের উদ্ধারে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বান্দরবান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর টংকাবতী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের একটি বিশেষ দল অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অপহৃতদের নিরাপদ উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে কারা এই অপহরণের সাথে জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠনের নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের অপহরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ওই এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
