,

বায়ুদূষণে তৃতীয় ঢাকা, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে শঙ্কা

ধুলো, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আবারও বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে ১৭৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এই মাত্রার বায়ু নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে ২১০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। শহরটির বায়ুমান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। ১৭৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ঢাকার পর ১৬৫ স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি চতুর্থ এবং ১৬৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

বায়ুমান সূচকের মাত্রা যত বাড়ে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত বেশি হয়। আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত বায়ু ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’। আর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর হলে তা সবার জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) এবং ওজোন (ও₃)। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো অতিক্ষুদ্র কণা মানুষের শ্বাসতন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারে বলে এটি বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক উৎসকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। নগরীতে চলমান নির্মাণকাজ, রাস্তার ধুলা এবং যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত বিভিন্ন কারণে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

ঢাকার বায়ুমান ১৭৩-এ পৌঁছানো তাই নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসযন্ত্র বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দূষণের প্রধান উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে ধুলা কমানো, যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত বিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।