বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ, ২৩ জুন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন প্রাসাদে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটির যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন পাকিস্তানে এটি ছিল প্রথম সংগঠিত এবং প্রভাবশালী বিরোধী রাজনৈতিক দল।

প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে আটক ছিলেন, কিন্তু দলীয় নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাঁকে যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানী পুনরায় সভাপতি ও শেখ মুজিব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের ২১–২৩ অক্টোবর ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দলটির নাম চূড়ান্তভাবে পরিবর্তিত হয়ে হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে দলটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধসহ বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রতিষ্ঠা ও ঐতিহাসিক মাইলফলক

  • পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ২৩ জুন ১৯৪৯, পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন প্রাসাদে।

  • প্রথম কাউন্সিলে ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, এবং শেখ মুজিব যুগ্ম সম্পাদক হন।

  • ১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় কাউন্সিল ময়মনসিংহে; ভাসানী ও মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত।

  • ১৯৫৫ সালের তৃতীয় কাউন্সিলে “মুসলিম” শব্দ বাদ দিয়ে নাম রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।

ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা

  • দলটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যার ফলে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

  • ১৯৬০-এর দশকে ছয় দফা আন্দোলন (১৯৬৬), আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (১৯৬৮), ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দলটির নেতৃত্বে সংঘটিত হয়।

  • ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর, শেখ মুজিব ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পর শুরু হয় নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

স্বাধীনতার পর ও পরবর্তী নেতৃত্ব

  • স্বাধীনতার পরে দলটি নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে।

  • ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়।

  • ১৯৮১ সালে প্রবাস জীবন শেষে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন এবং ২০০৯ সাল থেকে তিনি একাধিক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান স্থগিতাবস্থা

  • ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কার দাবিতে সংঘটিত গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

  • ১২ মে ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে, ফলে তারা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়।

  • জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এসময়কার দমনপীড়নে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয় বলে জানা গেছে।

  • জুন ২০২৫ থেকে শেখ হাসিনা ও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়, যা এখনও চলমান।

  • যদিও দলটি দেশে নিষিদ্ধ, তবু বিদেশে আশ্রিত নেতারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা এসব নিষেধাজ্ঞাকে স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরিস্থিতি

  • নিষেধাজ্ঞার কারণে এ বছর কোনো জনসমাগম বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না

  • দলটির ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, আন্তর্জালে আলোচনা, ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা, এবং তুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ নিভৃতে পালিত হবে।