জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার দলে পরিবর্তন

বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর পরবর্তী টেস্টের জন্য দলে পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ওপেনিংয়ে। বাদ পড়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড; তাঁর জায়গায় দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ম্যাথু রেনশ। ম্যাকেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পরের টেস্টে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনের সম্ভাবনাই বেশি রেনশর।

এপ্রিল মাসে জাতীয় চুক্তিতে জায়গা পাওয়ার পর ডারউইন টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন ওয়েদারাল্ড। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি তাঁর জন্য হতাশার হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান না করেই আউট হন তিনি। অস্বাভাবিক সেই আউটে তাঁর ব্যাটে লেগে বল সরাসরি স্টাম্পে গিয়ে লাগে।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ব্যর্থতার পর ওয়েদারাল্ডের আন্তর্জাতিক টেস্টে মোট ১২ ইনিংসে ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে ২০.৩৬। যদিও এত কমসংখ্যক ইনিংস দিয়ে একজন ব্যাটারের সামর্থ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন, তবু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়া ঝুঁকি কমানোর পথেই হাঁটছে।

ওয়েদারাল্ডকে সুযোগ দেওয়ার পেছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণ ছিল। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সময় তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিও কার্যকর ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এলবিডব্লিউ ও বোল্ড হওয়ার প্রবণতা কমাতে নিজের ব্যাটিং কৌশলেও পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। ক্রিজে দাঁড়ানোর অবস্থান এবং শরীরের নড়াচড়ায় পরিবর্তন এনে নিজের দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও সেই কারিগরি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তনগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য ওয়েদারাল্ড যথেষ্ট সময় পাননি। মাত্র দুই ইনিংসের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নতুন ব্যাটিং পদ্ধতির সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা বিচার করাও কঠিন।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফলের চাপ আলাদা। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং যে সমস্যায় পড়েছিল, ডারউইনের ম্যাচ সেটিই স্পষ্ট করেছে। তাই পরবর্তী টেস্টের আগে ওপেনিং জুটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে নির্বাচকদের।

সেই জায়গায় রেনশকে সবচেয়ে স্বাভাবিক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে তাঁর ব্যাট ছিল দুর্দান্ত। ১০ ইনিংসে তিনটি শতক করার পাশাপাশি প্রায় ৫০ গড়ে রান করেছিলেন তিনি। ম্যাকেতেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর দুটি শতক রয়েছে। ফলে ভেন্যুটির পরিবেশ ও কন্ডিশন তাঁর জন্য সম্পূর্ণ নতুন নয়।

রেনশর সবচেয়ে বড় সুবিধা তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলেছেন। তবে তাঁর সর্বশেষ টেস্ট হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে দিল্লিতে। সেই ম্যাচে তাঁকে ওপেনিংয়ের পরিবর্তে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে এবার নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলার সুযোগ পেলে সেটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার হাতে আরেকটি বিকল্প হিসেবে রয়েছেন জশ ইংলিস। সাধারণত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করলেও টপ অর্ডারে তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ রয়েছে। গত নভেম্বরে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে ওপেন করে তিনি ৪০ এবং অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকেও ওপেনিংয়ে পাঠানোর চিন্তা করতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

লাবুশেনের ফর্ম নিয়েও উদ্বেগ

শুধু ওপেনিং নয়, তিন নম্বর পজিশন নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার চিন্তার কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে মার্নাস লাবুশেন করেন ১ ও ৩১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রান করার সময় তাঁর ব্যাটিংয়ে কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও ইনিংসটি বড় করতে পারেননি তিনি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও লাবুশেনের পক্ষে খুব বেশি স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ব্যাট থেকে কোনো শতক আসেনি। সর্বশেষ ৪২ টেস্ট ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং গড় ২৫.২৩। অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর ব্যাটারের কাছ থেকে যে ধারাবাহিকতা ও বড় ইনিংস প্রত্যাশিত, সেই বিচারে এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগের।

তবে এখনই লাবুশেনকে বাদ দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি ম্যাকডোনাল্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার আগে তাঁর ব্যাটিংয়ের কয়েকটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। তাঁর মতে, লাবুশেন ভালোভাবে পায়ের ব্যবহার করছিলেন, শরীরের কাছাকাছি আসা বল নিয়ন্ত্রণে খেলছিলেন এবং সোজা ব্যাটে শট নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সমস্যা হলো, টেস্ট ক্রিকেটে শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারিত হয় রান দিয়ে। ৩১ রান করে ভালো শুরু করলেও সেটিকে বড় স্কোরে রূপ দিতে না পারায় লাবুশেনের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ম্যাকডোনাল্ডও স্বীকার করেছেন, লাবুশেনের রান করার ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাটার নিজেও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন।

বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে হার তাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুধু একটি টেস্টের ফল নয়। এই পরাজয় দলের ব্যাটিং কাঠামোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে রেনশর প্রত্যাবর্তন, ইংলিসের সম্ভাব্য বিকল্প ভূমিকা এবং লাবুশেনের ফর্ম—সব মিলিয়ে ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং সমন্বয় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের পেসাররা প্রথম টেস্টে যে চাপ তৈরি করেছিলেন, তার প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী দল নির্বাচনেও স্পষ্ট। এখন স্বাগতিকদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে নতুন ব্যাটিং সমন্বয়কে দ্রুত কার্যকর করা। আর রেনশর জন্য এটি শুধু জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ নয়; দীর্ঘ বিরতির পর আবারও টেস্ট ওপেনার হিসেবে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর